চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ও চিকিৎসা

User Rating: 0 / 5

Star InactiveStar InactiveStar InactiveStar InactiveStar Inactive
 

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) হচ্ছে মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গুর সঙ্গে এর বেশ কিছুটা মিল রয়েছে। ডেঙ্গুর মতোই এ ভাইরাসটিও এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস অ্যালবপ্টিকাস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গুর মতই মানবদেহ থেকে মশা এবং মশা থেকে মানবদেহে ছড়িয়ে থাকে। তবে এই রোগে জ্বরের সঙ্গে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। ঢাকা শহরে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। তাই চিকুনগুনিয়ার আদ্যপান্ত জানা জরুরি।


চিকুনগুনিয়ার লক্ষণঃ
১. জ্বর এর প্রধান লক্ষণ। হঠাৎ তীব্র জ্বর। ১০৪- ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর উঠতে পারে।
২. অস্থি সন্ধিতে ব্যথা। হাত বা পায়ের আঙুলের সন্ধিগুলোতে ব্যথা হয়। বড় অস্থিসন্ধিতেও ব্যথা হতে পারে। জ্বর চলে যাওয়ার পরও ব্যথা থাকতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যথা এক দেড় মাস বা তারও বেশি স্থায়ী হতে পারে।
৩. ত্বকে হামের মতো র‍্যাশ হয়।
৪. বমি।
৫. মাথা ব্যথা।
৬. দুর্বলতা। জ্বর ভালো হলেও শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে বেশ কিছু দিন।
রোগ নির্ণয়ঃ
সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা সিবিসিতে এই রোগ ধরা পড়ে না। ডেঙ্গুর সঙ্গে এর একটা অমিল হলো এই রোগে প্লাটিলেট কমে না। রক্তে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি নির্ণয় করে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত করা যেতে পারে।
চিকিৎসাঃ
আর সব ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। প্রচুর পানি, সরবত,ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল। বমি বা অন্যান্য উপসর্গের জন্য সে অনুযায়ী কিছু ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। এন্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই।
প্রতিরোধঃ
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে আমরা যা যা করি এখানেও তাই করতে হবে, বাহক যেহেতু সেই এডিস মশা। মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা খোলা পানির আধারগুলো পরিষ্কার করতে হবে। যেমন: কমোড, ফ্রিজের পেছন দিকটার পানি, টবের পানি, টায়ারে আটকে থাকা পানি ইত্যাদি। আশপাশের গর্ত, ডোবা পরিষ্কার করতে হবে। মশক নিধনের জন্য সিটি করপোরেশন মশা নিরোধক ধোঁয়ার ব্যবস্থা করবে। এডিস মশা দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে বিকেলে। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে মশারি ঝুলিয়ে ঘুমাতে হবে।
চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ গত কয়েক বছরে বেশ বেড়েছে। প্রতিরোধই এর জন্য ভালো সমাধান।